November ৩০, ২০২৫
নিখুঁত অবয়ব 
অণুগল্প

আপনার মতামত দিন

নিখুঁত অবয়ব 

মেঘমালা
Sunday, August 31, 2025

সুমিতা সবে ফার্স্ট ইয়ার।রাত্রির নীরবতা  বারবার ছিন্ন হয়েছে তার ফোনের শব্দ আর আলোর খেলায়। সুন্দরী মেয়ের জন্মদিন বলে কথা।মুখবইটা ভর্তি শুভেচ্ছাবার্তায়।

কলেজে যেতেই বাঁধভাঙা শুভেচ্ছাবার্তার বন্যা।খারাপ লাগছে না ওর।পুরুষের চোখের আলোর পথ যে তার পথের অনুগামী তা সে বিলক্ষণ  জানে।

একটা ক্লাস শেষ হতেই দীপ হাসিমুখে ওর কাছে এসে বললে "ছুটির পর একবার ইউনিয়ন রুমে আসিস তো।'বিউটি উইথ ব্রেন' কম্বিনেশনটা তো একটা রেয়ার স্পিসিজ।আর সেই জন্মদিনটা স্মরণীয় করতে একটু শুভেচ্ছা আরকি। বেশিক্ষণ আটকাবো না।ওই মিনিট পনেরো। "

একগুচ্ছ গোলাপের স্নিগ্ধতা খেলে গেল ওর মুখে।স্কুলে এইরকম যেচে আমন্ত্রণ সে অনেক পেয়েছে।গিফট আর ফুলে ভর্তি হয়ে যেত ঘর।তারপরে সুবাসিত ফুলের জায়গা হতো দুর্গন্ধের বেড আর গিফটগুলো হাতবদল হয়ে পৌঁছে যেত কাজের মাসির দস্যি ছেলের হাতে। ভাড়াবাড়ির মোহ কাটিয়ে তাদের চিরস্থায়ী আস্তানা হতো আস্তাকুঁড়ে। যে মোহ ভালোবাসা জড়ানো থাকত  গিফটগুলোর পরতে পরতে তা বিন্দুমাত্র স্পর্শ করতে  পারত না সুমিতার দৃঢ় হৃদয়। তাদের করুণ পরিণতির খবর জানত না সেই হাসি মুখগুলো।

ইউনিয়ন রুমে দীপ সহ উপস্থিত আছে আরও কয়েকজন।তাকে দেখে তাদের চোখে মুখে এক অন্যরকমের অভিব্যক্তি ফুটে উঠল।যে অভিব্যক্তি ফুটে উঠতে দেখেছে সে বাড়ির পথের রকের আড্ডাবাজ ছেলেগুলোর চোখমুখে। ত্রস্ত মন নিমিষে  চলে আসার জন্য মুখ ফেরাল।তার আগেই দুজোড়া হাতের আঙুল চেপে ধরলে মুখ-হাত।রুদ্ধ হলো সম্মুখপথ।দরজার বাইরে দুজন ছাত্র, সজাগ পাহারায়।

"দীপ আছে?আমাকে আসতে বলেছিল।" আঁতকে উঠলে তারা।একটু আগেই তো এই মেয়েটাকে ঢুকতে দেখেছে।তবে..

ঘরের অন্দর হতে আগত চিৎকারে আনন্দবার্তা ছাপিয়ে প্রকটিত আতঙ্কধ্বনি।সুমিতা দরজা খুলতেই দেখলে মেঝের উপর যন্ত্রণায় আর্তনাদ করছে দীপসহ গোটা ছয় ছেলে।তারা কেউ অক্ষত নেই।আর তাদের বিস্ফোরিত চোখ ফেটে যেটা বের হচ্ছে,সেটা আতঙ্ক, এক তীব্র আতঙ্ক। একটা ভয়ের হিমেল স্রোত শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে গেল সুমিতার।ওই তো ওরই মতো হালকা গোলাপি চুড়িদারে কে  ওটা?কে  দাঁড়িয়ে? চুলের বিনুনি, এমনকী ক্লিপের রঙটাও তো একই।ওর দিকে তাকিয়ে মূর্তিটার ক্রুদ্ধ চোখে হালকা হাসির রেখা ফুটে উঠল। তারপরেই সেই হাসি বিকট রূপ ধারণ করলে। একটা চিৎকার বাতাস কাঁপিয়ে উঠলো। "তোদের সাজা কেউ দেবে না।সাজা দেব আমরা।যারা তোদের শিকার।আর কোনদিনই তোরা এই অপরাধ করতে পারবি না। ইচ্ছে হলেও পারবি না।"

 সুমিতা আন্দাজ করতে পারলে কী ঘটেছে এখানে।কিছু বলার জন্য মুখ হাঁ করলে কিন্তু কথার স্ফুরণ হওয়ার আগেই বাতাসে মিলিয়ে গেল তারই মতো দেখতে সেই নিখুঁত অবয়ব।