November ৩০, ২০২৫
বুদ্ধিজীবী – বাংলার বুদ্ধিজীবী
ব্লগ

আপনার মতামত দিন

বুদ্ধিজীবী – বাংলার বুদ্ধিজীবী

মেঘমালা
Wednesday, August 13, 2025

একটা দেশ তখনই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে যখন সেই দেশের বুদ্ধিজীবীরা তাদের মেরুদণ্ড হয় বিক্রি করে দেয় অথবা হারিয়ে ফেলে। স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় ক্ষতি যেটা হয়েছে সেটা হলো বুদ্ধিজীবীদের অধঃপতন। সত্তরের দশকেও আমরা দেখেছি কী টগবগে রগরগে দাপট দেখিয়ে দিন কাটিয়েছেন ভারতবর্ষের, বিশেষ করে বাংলার বুদ্ধিজীবীরা। আর আজ এই ২০২৫ সালে? ১৯৭৫ থেকে ২০২৫ - দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরে বুদ্ধিজীবীরা ভারতবর্ষকে এমন কিছু উপহার দিতে পারেনি যা দেখে উন্নতির সুনির্দিষ্ট একটা ম্যাপ তৈরী করা যায়। ১৯৭৫ থেকে ধরলাম কেন? তিনটা কারণে। একটা হলো ১৯৭৫-এ ইন্দিরা গান্ধী দেশে 'ইমার্জেন্সি'-র সৃষ্টি করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ভারতবর্ষ গণতন্ত্রের বুলি আওড়ালেও মুহূর্তের মধ্যে সেটা বদলে যেতে পারে। দ্বিতীয় কারণ হলো, ইন্দিরা গান্ধী সেই সময়ে সেনা বাহিনীকে দেশের শাসন ভার দিয়ে দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু সেনা বাহিনী তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। সেটা প্রমান করেছিল ভারতবর্ষের সেনা বাহিনী পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সেনা বাহিনীর চাইতে অনেক বেশী উন্নত মনস্ক। তারা বুঝেছিল এই ফাঁদে পা দিলে দেশের সর্বনাশ হবে। তৃতীয় কারণ হলো, সেই সময়ে দেশের বুদ্ধিজীবীরা জেলে গিয়ে প্রমান করে দিয়েছিলেন যে দু'চারজনকে কেনা গেলেও তাদের সবাইকে কেনা যায় না। আর তারপরই যেন সব পাল্টে গেল মনে হয়। শিল্প সাহিত্যে ভাটা পড়লো। রাজনীতির সংজ্ঞা পাল্টে গেল। ১৯৭৭-এ নতুন সরকার এল দেশে এবং বাংলায়। মাত্র কিছুদিন পর মোরারজীর মতো সৎ ব্যক্তির সরকার ভেঙে গেল। বাম ক্ষমতা পেয়ে বদলাতে শুরু করলো।

তারপর?

আজ ২০২৫ সালে চারদিকে শুধু অরাজকতা। দৈন্যতা। বুদ্ধিজীবীদের অবস্থা রাস্তার ভিখারিদের চাইতেও খারাপ হয়ে গেল। দেশের 'মান' আজ ফেসবুকে রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থকদের হাতে পাঁচ পয়সার মোয়ার মতো নাচে - এ যেন চৈত্র মাসের গাজন নাচের মতো। আর বুদ্ধিজীবীরা? তারা নিঃশব্দে দিন গুজরান রাজনৈতিক দলগুলোর দলদাস হয়ে। শুনেছি তাদের অনেকেই নাকি মাসিক ভাতা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন। বেশ কিছু 'বিপ্লবী' বুদ্ধিজীবী আজ শাসক দলের চামচা হয়ে গলা ফাটান। এই যদি অবস্থা হয় তাহলে দেশ উন্নতি সাধন করবে কী করে? কে পথ দেখাবে? শাসক কাকে ভয় পাবে? চেক এন্ড ব্যালান্স বলতে তো আর বিশেষ কিছুই নেই ভারতবর্ষে। এখন অব্দি বাহবা দিই আমি শুধু ভারতবর্ষের একটি গ্রূপকে - সেনা বাহিনী। ধন্য তারা। নির্লোভী - একেবারেই সৎ একটা গ্রূপ। হ্যাঁ, জানি তাদের কেউ কেউ দেশের তথ্য পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। কিন্তু সেটা নগন্য। তারা ক্ষমতা লোভী হলে ভারতবর্ষ আজ পাকিস্তান আর বাংলাদেশ হয়ে যেত। ভারতবর্ষের যতটুকু অবশিষ্ট আছে সেটাও আর থাকতো না।